الإخلاص | সূরা আল ইখলাস | Surah Al-Ikhlas | Hafez Tauhidul Islam | Azan Bangladesh

الإخلاص | সূরা আল #ইখলাস | Surah #Al-Ikhlas | Hafez #TauhidulIslam | #AzanBangladesh

সহজে শিখুন এবং মুখস্থ রাখুন ।।

সুমধুর কণ্ঠে তিলাওয়াত করেছেন #হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম ।

সহকারী ইমাম চালাবন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (চালাবন মাটির মসজিদ ) ।

সূরা আল ইখলাস (আরবি ভাষায়: الإخلاص, বাংলা ভাষায়: নিষ্ঠা‎) বা সূরা আল-তাওহিদ (আরবি ভাষায়: التوحيد, বাংলা ভাষায়: একত্ববাদ) মহাগ্রন্থ আল কুরআনের ১১২ তম সূরা। সূরা আল ইখলাস-এর আয়াত সংখ্যা ৪টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১টি। আল ইখলাস সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরাটিকে ইসলামের শেষ পয়গম্বর মুহাম্মাদ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাৎপর্যের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই আয়াতে আল্লাহ্‌র সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে । এটি কুরআনের অন্যতম ছোট একটি সূরা হিসেবেও বিবেচিত হয়ে থাকে।

কুরআনের বিভিন্ন সূরার বিষয়বস্তু প্রধানত: তিন শ্রেণীর যথা আল্লাহর পরিচয়, হয়রত মুহাম্মাদ-এর রিসালত এবং পরকালের বর্ণনা। সূরা ইখলাসে কেবল আল্লাহ এর কথাই আলোচিত হয়েছে হাদিস: কোরআন শরীফ এর এক তৃতীয়াংশের সমান আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে রাতে বারবার সুরা আল-ইখলাস পড়তে শুনেছেন। অতঃপর সকালে মহানবী (সা.)-কে এ বিষয়টি অবহিত করা হলো। মহানবী (সা.) তখন বলেন, ওই সত্তার শপথ, যার কুদরতের হাতে আমার জীবন, অবশ্যই এ সুরা কোরআন মাজিদের এক-তৃতীয়াংশের সমান। (সহিহ বুখারি : ৫০১৩, আবু দাউদ : ১৪৬১, নাসায়ি : ২/১৭১, মুআত্তা মালেক : ১/২০৮)

মহানবী (সা.) একদা সাহাবিদের বলেন, তোমারা কি এক রাতে কোরআন মাজিদের এক-তৃতীয়াংশ পড়তে পারবে? সাহাবিরা এ প্রস্তাবকে খুবই কঠিন মনে করলেন। ফলে তারা বলল, আমাদের মধ্যে এ কাজ কে করতে পারবে? মহানবী (সা.) তখন বললেন, সুরা ইখলাস কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০১৫, নাসায়ি, হাদিস : ৯৯৫) কোরআন মাজিদ তিন ভাগে বিভক্ত। এক ভাগ আহকাম বা বিধি-বিধানসংক্রান্ত। আরেক ভাগ জান্নাতের সুসংবাদ ও জাহান্নামের দুঃসংবাদসংক্রান্ত এবং অন্য ভাগ আল্লাহর নাম ও গুণাবলিসংক্রান্ত। শেষোক্ত ভাগটি সুরা ইখলাসে একত্রিত হওয়ার কারণে একে কোরআন মাজিদের এক-তৃতীয়াংশ বলা হয়েছে। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ কোরআনকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। আর এ সুরাটি (সুরা ইখলাস)-কে একটি ভাগে পরিণত করেছেন। (মুসলিম, হাদিস : ৮১২, তিরমিজি, হাদিস : ২৯০০)

সুরা ইখলাস তিনবার পাঠ করলে কি এক খতম কোরআন পাঠের সওয়াব পাওয়া যাবে? এ সুরাটি তিনবার পাঠ করলেই পূর্ণ কোরআন মাজিদ পাঠ হয়ে যাবে বা এক খতম কোরআনের সওয়াবপ্রাপ্ত হবে—এরূপ কথা হাদিসের কোথাও বলা হয়নি। বরং বলা হয়েছে যে সুরা ইলখাস কোরআন মাজিদের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য।

এর মর্মার্থ হলো, এ সুরাটি যে ব্যক্তি বুঝে পাঠ করবে তার অন্তরে আল্লাহর নাম ও গুণাবলি গেঁথে যাবে, ফলে সে শিরকি চিন্তাধারা থেকে পরিচ্ছন্ন থাকবে। অর্থাৎ সুরা ইখলাস পাঠের ফলে কোরআন মাজিদের এক-তৃতীয়াংশের আমল তার মধ্যে পাওয়া গেল। এর অর্থ এই নয় যে একবার সুরা পাঠ করলে এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করা হলো এবং তিনবার পাঠ করলে এক খতম কোরআন পাঠ করা হলো এবং এক খতমের সওয়াবপ্রাপ্ত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© 2022 HajarDuar.Com - All Rights Reserved.